ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিস — অ্যান্টাসিড কি আসলেই সমাধান?

১ মিনিট পড়ার সময়
মেডিকেল রিভিউ:  ডা. সাজিয়া নওরীন

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরেই অ্যান্টাসিডের প্যাকেট পাওয়া যায়। সকাল-সন্ধ্যা অ্যাসিডিটির ওষুধ না খেলে অনেকেই খাবার হজম করতে পারেন না। কিন্তু আপনি কি জানেন, দীর্ঘদিন এসব ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরে B12 শোষণ কমে যায়, ক্যালসিয়াম ঘাটতি হয়, এমনকি হাড়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে?

সমস্যার আসল চেহারা

পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন আসলে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া — এটি খাদ্য হজম ও জীবাণুনাশের জন্য জরুরি। সমস্যা তখনই হয়, যখন এর ভারসাম্য নষ্ট হয়। কারণগুলো হতে পারে:

  • দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
  • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
  • দীর্ঘদিন পেইনকিলার বা NSAID গ্রহণ
  • H. pylori জীবাণুর সংক্রমণ
  • ধূমপান বা মদ্যপান

প্রচলিত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা

অ্যাসিড সাময়িকভাবে চাপা দিলে আরাম মেলে ঠিকই, কিন্তু পাকস্থলীর শ্লেষ্মা স্তরের ক্ষতি অব্যাহত থাকে। ফলে ওষুধ বন্ধ করলেই ‘রিবাউন্ড অ্যাসিডিটি’ ফিরে আসে — অনেক সময় আগের চেয়েও তীব্র হয়ে।

হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিভঙ্গি

হোমিওপ্যাথি অ্যাসিড উৎপাদনকে চেপে রাখে না, বরং পাকস্থলীর স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারে কাজ করে। রোগীর প্রকৃতি, মানসিক চাপের ধরন, খাবারের প্রতি বিশেষ অনীহা বা আকর্ষণ — সবকিছু বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।

জীবনযাত্রায় করণীয়

  • প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খান
  • রাতের খাবারের অন্তত ৩ ঘণ্টা পর শুতে যান
  • চিকন চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন
  • অতিরিক্ত মশলা, ভাজা ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন

শেষ কথা

পদ্মা হোমিও মেডিকেয়ার-এ ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিস ও হাইপারঅ্যাসিডিটির রোগীদের জন্য Constitutional চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি হয় DU রেজিস্টার্ড BHMS চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে — যাতে রোগী ধাপে ধাপে অ্যান্টাসিডের নির্ভরতা থেকে মুক্ত হতে পারেন।


হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক